দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে আজ আনন্দে মেতে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব।
সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস রমজান শেষে এই উৎসব শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে বায়তুল মোকাররম-এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ-এ। ঐতিহ্যবাহী এ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হয় এবং নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত টানা ছুটি চলছে। সরকারি-বেসরকারি ভবন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। গণমাধ্যমগুলোও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
এছাড়া এতিমখানা, হাসপাতাল, কারাগার ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও জাদুঘর উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
পবিত্র এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: