[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
১৮ চৈত্র ১৪৩২

ঈদ সামনে রেখে বাড়ছে মুরগির দাম, ক্রেতায় ভরছে সেমাই-চিনির দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে মুরগির বাজারে আবারও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত এবং সোনালি মুরগিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। একই সময়ে ডিমের দামও ডজনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ঈদকে ঘিরে সেমাই ও চিনির বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে।


শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, আগারগাঁও ও রামপুরা এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজা শুরুর আগের দিন ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। পরে দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে এলেও আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা।


একইভাবে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব মুরগি কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আগের মতোই প্রায় ৮০০ টাকা কেজি রয়েছে। এছাড়া ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে।


খিলক্ষেত বাজারের এক বিক্রেতা জানান, ঈদের আগে প্রতি বছরই মুরগির চাহিদা বাড়ে এবং তার সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। এ বছরও রোজার মাঝামাঝি সময় থেকেই পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।


মুরগির দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাকে মাছের বাজারে ভিড় করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার বেশি দাম শুনে মুরগি না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
কয়েকদিন আগে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে বাজারে খোলা ও বোতলজাত—দুই ধরনের তেলই পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংকটের সময় যে দামে লিটারপ্রতি ৪ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেই দাম এখনও বহাল রয়েছে।


ঈদের এখনো প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও বাজারে সেমাই ও চিনির দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট প্যাকেটের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এছাড়া সাধারণ মানের বাংলা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। চিনি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।


এদিকে সবজির বাজারে কিছুটা দাম কমার প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, উচ্ছে ৭০ থেকে ৮০, শিম ৪৫ থেকে ৫০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি এবং পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।
মাছের বাজারে পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া প্রায় ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরা, শোল, বাইন ও অন্যান্য দেশি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি—জাত ও আকারভেদে প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লাগছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর