[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

ওভারিয়ান সিস্ট কেন হয় এবং এর সতর্কতামূলক লক্ষণসমূহ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে নারীদের, বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে ডিম্বাশয়ে সিস্ট বা 'ওভারিয়ান সিস্ট'-এর

 সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিস্ট ও টিউমার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। টিউমার সাধারণত 'বিনাইন' (ক্ষতিহীন) বা 'ম্যালিগন্যান্ট' (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) হতে পারে, অন্যদিকে ওভারিয়ান সিস্ট হলো ডিম্বাশয়ের অভ্যন্তরে বা উপরিভাগে তৈরি হওয়া তরল পূর্ণ থলির মতো গঠন।

​ওভারিয়ান সিস্ট হওয়ার প্রধান কারণ

​চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা এই হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া ওভারিয়ান সিস্ট তৈরির প্রধান কারণ। ইস্ট্রোজেনের মাত্রাধিক্যের কারণে ওভিউলেশন (ডিম্বাণু নিঃসরণ) অনিয়মিত হয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সিস্টে রূপ নেয়। এছাড়া অনিয়মিত মাসিক ও খুব অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়ার মতো বিষয়ের সঙ্গেও এর সংযোগ রয়েছে। তবে সিস্টের ধরণ ভেদে পেছনের ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।

​সিস্টের প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ

​ডিম্বাশয়ে সিস্ট হলে শরীরে যেসকল প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে:

  • ​পেটে অস্বাভাবিক ফুলা ভাব অনুভব করা।
  • ​মলত্যাগের সময় পেটে বা তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা।
  • ​ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড চলাকালীন এবং তার ঠিক পূর্বে অতিরিক্ত ব্যথা।
  • ​শারীরিক সম্পর্কের (ইন্টারকোর্স) সময় যন্ত্রণা অনুভব করা।
  • ​উরু বা থাইয়ের অংশে ব্যথা হওয়া।
  • ​বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি লাগা।

​প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়

​বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন:

​১. সঠিক খাদ্যাভ্যাস: দৈনন্দিন তালিকা থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি এবং গোটা শস্যজাতীয় খাবার যুক্ত করতে হবে।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে শরীরের বিএমআই (BMI) ২৫-এর নিচে রাখতে পারলে সিস্টের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

৩. প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরে ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ভিটামিন ই, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম ও ফ্লাক্সসিড অয়েল সমৃদ্ধ উপাদান গ্রহণ করা যেতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর