দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। এটি তৈরি করা যেমন
সহজ, তেমনই এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম, কোলিন এবং চোখের জন্য উপকারী লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন। তবে ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে অনেকের মনেই নানা সংশয় থাকে।
প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাওয়া নিরাপদ। তবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, কাজের ধরণ এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর। খাদ্যাভ্যাস ভারসাম্যহীন হলে ডিম খাওয়ার পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ডিম খাওয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যের সরাসরি কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ডিম খাওয়ার সাথে স্বাস্থ্যের ঝুঁকির সরাসরি কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। তাই সার্বজনীনভাবে প্রতিদিন একাধিক ডিম খাওয়ার সুপারিশ করা হয় না।
কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি
খাদ্যের কোলেস্টেরল আর রক্তে থাকা কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। ডিমের কুসুমে ডায়েটারি কোলেস্টেরল থাকলেও রক্তে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। জিনগত কারণ, খাদ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি নির্ভর করে।
যাদের রক্তে উচ্চ এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পুরো ডিম নাকি শুধু সাদা অংশ?
ডিমের সাদা অংশ চর্বিমুক্ত প্রোটিনের দারুণ উৎস। অন্যদিকে, পুরো ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। যারা রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি ছাড়াই অতিরিক্ত প্রোটিন চান, তারা একটি পুরো ডিমের সঙ্গে বাড়তি ডিমের সাদা অংশ যোগ করে খেতে পারেন।
স্বাস্থ্যকর উপায়ে ডিম প্রস্তুতকরণ
ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার ওপরও এর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে। সেদ্ধ বা তেল-চর্বি ছাড়া পোচ করে ডিম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। অতিরিক্ত মাখন, তেল বা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে ভাজা ডিম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে ডিমের সাথে শাক-সবজি বা আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
এসআর