[email protected] শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

কোমল পানীয় কি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২০ এএম

সংগৃহীত ছবি

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা মিষ্টি পানীয় শরীরের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা বহুল প্রচলিত। ওজন বৃদ্ধি,

 ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এবার মিষ্টি পানীয়র সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে নতুন একটি তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৬ সালে বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘গ্যাস্ট্রো হেপ অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় চিনিযুক্ত ও কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

​ভারতের মুম্বাইয়ের ‘এমওসি ক্যানসার কেয়ার’-এর বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. রূপজ্যোতি শর্মা এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝাঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

​কী দেখা গেছে গবেষণায়?

​ড. রূপজ্যোতি শর্মা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণায় ১,১২,২৮৪ জন মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে ২৭৮ জনের পাকস্থলীর ক্যানসার শনাক্ত হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা মাসে গড়ে একটির কম চিনিযুক্ত পানীয় পান করতেন, তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন অন্তত একটির বেশি মিষ্টি পানীয় পান করতেন, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার ছিল ২.৪৫ গুণ বেশি।

​শারীরিক চর্চা, ধূমপান, মদ্যপান বা ডায়াবেটিসের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে ড. রূপজ্যোতি স্পষ্ট করেছেন যে এটি একটি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ গবেষণা; তাই মিষ্টি পানীয়ের সঙ্গে ক্যানসারের একটি সম্পর্ক দেখা গেলেও কোল্ড ড্রিংকস সরাসরি ক্যানসার তৈরি করে—এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ এতে পাওয়া যায়নি।

​গবেষণার সীমাবদ্ধতা

​পর্যবেক্ষণমূলক এই গবেষণার কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

​১. পাকস্থলীর ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ ‘হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি’ (এইচ. পাইলোরি) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সম্পর্কিত তথ্য কেবল অল্প কিছু অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছিল।

২. বংশগত ইতিহাস বা টিউমারের সঠিক অবস্থান সম্পর্কিত পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না।

৩. গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সিংহভাগই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক। ফলে বিশ্বব্যাপী বা বিশেষ করে এশীয় এবং উপ-মহাদেশীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এই তথ্য কতটা প্রযোজ্য, তা সরাসরি বলা সম্ভব নয়।

​ক্যানসার ও মিষ্টি পানীয়: মূল ঝুঁকিগুলো কী কী?

​ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. শর্মার মতে, কেবল মিষ্টি পানীয়কেই ক্যানসারের মূল কারণ মনে করা ঠিক নয়। এর পেছনে আরও কিছু বড় ঝুঁকি কাজ করে:

​এইচ. পাইলোরি সংক্রমণ: পাকস্থলীর ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসায় ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

​অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সংরক্ষিত খাবার গ্রহণ।

​অন্যান্য শারীরিক ও জীবনযাপনভিত্তিক কারণ: বয়স, বংশগত ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও অনিয়মিত জীবনযাপন।

​‘ডায়েট’ বা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয় কি নিরাপদ?

​গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে ড. রূপজ্যোতি শর্মা সতর্ক করে বলেন, এর মানে এই নয় যে ডায়েট ড্রিংকস ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কৃত্রিম মিষ্টি নিয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতামত এখনো মিশ্র।

​‘ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ড’-এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর মতে, যেকোনো মিষ্টি পানীয়ের বদলে সাধারণ বিশুদ্ধ পানি বা চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম। এ ছাড়া কৃত্রিম মিষ্টি ‘অ্যাস্পারটেম’-কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিhistory’ বললেও, তা সাধারণ মাত্রায় পান করলে সরাসরি ক্যানসার তৈরি করে—এমন কোনো শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

​চিকিৎসকের পরামর্শ

​প্রতিদিন চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সরাসরি স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়—যা পরোক্ষভাবে শরীরের সার্বিক ক্যানসার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কোল্ড ড্রিংকস বা বোতলজাত জুসের অভ্যাস কমিয়ে দৈনন্দিন জীবনে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর