দৈনন্দিন নানা সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি ও স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের
বদলে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা প্রাকৃতির প্রতিকার বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের রান্নাঘর ও বাগানে থাকা উপাদানগুলো দিয়েই এসব সমস্যার সহজ ও দ্রুত সমাধান সম্ভব, তবে কোন সমস্যায় কোনটি কার্যকর তা জেনে নেওয়া জরুরি।
গলা ব্যথার জন্য মধু ও লেবু: গলার অস্বস্তি ও প্রদাহ কমাতে মধু ও লেবুর মিশ্রণ দারুণ আরামদায়ক। মধুর প্রশান্তিদায়ক গুণের সঙ্গে লেবুর টক স্বাদ ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মিশে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এক টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে অর্ধেকটা লেবুর রস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করলে গলা ব্যথা কমে।
বদহজমের জন্য পুদিনা চা: পেটে অস্বস্তি ও পেট ফাঁপার মতো বদহজমের সমস্যা দূর করতে পুদিনা চা অত্যন্ত কার্যকরী। পুদিনায় থাকা মেন্থল পরিপাকতন্ত্রকে শিথিল করে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গরম পানিতে পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে তৈরি করা এই সুগন্ধি চা খাবারের পর পান করলে পেট ঠান্ডা ও মন চাঙ্গা হয়।
বমি বমি ভাবের জন্য আদা: মর্নিং সিকনেস কিংবা ভ্রমণজনিত বমি বমি ভাব কাটাতে আদার জুড়ি নেই। আদা কুচি করে ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে চা বানিয়ে পান করলে বা কাঁচা চিবিয়ে খেলে পেট দ্রুত শান্ত হয়।
গাঁটের ব্যথার জন্য হলুদের দুধ: হলুদে থাকা প্রদাহ-বিরোধী (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) উপাদান গাঁটের ব্যথা উপশমে ব্যথানাশক ওষুধের চমৎকার প্রাকৃতিক বিকল্প। গরম দুধের সঙ্গে এক চা চামচ হলুদ ও এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে ঘুমানোর আগে পান করলে ব্যথা কমার পাশাপাশি গভীর ঘুম হয়।
সর্দি-কাশির জন্য রসুন: রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিভাইরাল ও সংক্রমণ-প্রতিরোধী যৌগ থাকায় তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। কয়েকটি কোয়া কাঁচা গিলে খেলে কিংবা গরম স্যুপে যোগ করে খেলে এটি সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধী হিসেবে কাজ করে।
বুকজ্বালার জন্য বেকিং সোডা: বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি পাকস্থলীর অ্যাসিডকে দ্রুত প্রশমিত করে বুকজ্বালা থেকে তাৎক্ষণিক আরাম দেয়। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ বেকিং সোডা গুলে পান করলে অস্বস্তি কমে। তবে শরীরের স্বাভাবিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি কেবল মাঝে মাঝে ও অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
এসআর