[email protected] সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৬ খাবার, সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের বিকল্প পরামর্শ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬ ৮:৪৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়া এবং পরবর্তীতে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ—যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ (পূর্বে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার) নামে

 পরিচিত—তার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ থেকে লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি খাবার চিহ্নিত করেছেন।

​প্রথমত, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ ‘ফাস্টফুড’, যা দৈনিক ক্যালরির ২০ শতাংশ দখল করলে সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত ‘লাল মাংস বা রেড মিট’ (যেমন গরু বা প্রক্রিয়াজাত মাংস), যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি দ্বিগুণ ও ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি চার গুণ বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, ‘অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার’, যা লিভারে প্রদাহ তৈরি করে শরীরে পানি জমায় এবং সিরোসিস রোগীদের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা দ্বিগুণ করে।

​চতুর্থত, ‘ডুবো তেলে ভাজা খাবার’, যা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন খেলেই লিভারের রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি হয়। পঞ্চমত, ফ্রুক্টোজ ও হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপযুক্ত ‘কোমল ও চিনিযুক্ত পানীয়’, যা প্রতিদিন পানে লিভারের রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এবং ষষ্ঠত, কৃত্রিম রাসায়নিক ও অতিরিক্ত চিনি-লবণযুক্ত ‘আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার’ (যেমন চিপস, প্যাকেটজাত বেকড ফুড), যা ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

​এই ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা চমৎকার কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রেড মিট কমিয়ে প্রোটিনের উৎস হিসেবে মুরগি, টার্কি বা মাছ খাওয়া এবং রান্নায় সাধারণ তেলের পরিবর্তে লিভার সুরক্ষাকারী ও ২৬ শতাংশ ঝুঁকি কমানো ‘এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল’ ব্যবহার করা। এছাড়া ফলের জুস বা সোডা বাদ দিয়ে প্রচুর পানি বা জিরো-ক্যালরি ফ্লেভারড ওয়াটার পান করা এবং প্যাকেটজাত চিপসের বদলে স্ন্যাক্স হিসেবে লবণ ছাড়া সাধারণ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করার কথা বলেছেন চিকিৎসকেরা।

এসআর

সম্পর্কিত খবর