চীনের সাংহাইয়ে এক তরুণীর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
নিজের পোষা কুকুরছানাকে বিশেষায়িত একটি ‘কুকুর কিন্ডারগার্টেন’-এ ভর্তি করিয়েছেন তিনি, যেখানে প্রতি মাসে খরচ পড়ছে প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান—বাংলাদেশি টাকায় যা দুই লাখেরও বেশি।
তাওতাও নামে পরিচিত নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া ওই নারী জানান, কাজের চাপের কারণে পোষা প্রাণীটির যথাযথ যত্ন নিতে না পারায় তিনি এই উদ্যোগ নেন। তার ছয় মাস বয়সী সামোয়েড জাতের কুকুরটি এখন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে কুকুরটির স্বভাব ও আচরণ পরীক্ষা করা হয়। সেই অনুযায়ী তৈরি করা হয় আলাদা প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, যাতে অযথা ঘেউ ঘেউ করা বা আক্রমণাত্মক আচরণ কমে আসে। পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট গাড়িতে করে যাতায়াতের ব্যবস্থাও রয়েছে।
মাসিক ফি’র মধ্যে বোর্ডিং, আচরণগত প্রশিক্ষণ ও ইন্টারঅ্যাকশন ক্লাস অন্তর্ভুক্ত থাকলেও খাবারের খরচ আলাদা। মালিক চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে সারাদিন পোষ্যের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাও দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির একজন উদ্যোক্তা জানান, এ ধরনের সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি সিট পেতেই অপেক্ষা করতে হয় কয়েক সপ্তাহ। যদিও সাধারণ ডে-কেয়ার সেবা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়, তবুও উন্নত সুবিধার জন্য অনেকেই বেশি অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী।
খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে বিলাসিতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে পোষা প্রাণীকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। একাকিত্ব কমানো এবং আধুনিক জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে অনেকেই এখন পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্যের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছেন—যার ফলে এ ধরনের ব্যয়বহুল সেবার চাহিদাও বাড়ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: