কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে তাজমিনের নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার রাতে ওই ফোন থেকে তার বাবার কাছে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ায় মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় তার শরীরে পোশাক ছিল না এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা।
তাজমিনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তার বাবা আব্দুল আলীম চাকরির কারণে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
তাজমিন স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। চার দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা তাজমিনের মরদেহ যশোরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এসআর