যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে
বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এতে তার প্রেসিডেন্ট পদ কিংবা সাংবিধানিক নির্বাহী ক্ষমতা সরাসরি কেড়ে নেওয়া হবে না। তবে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে পারে তার সরকার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবস্থান দুর্বল হলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। এতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিও জোরদার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত—প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবও আলাদা। ফলে নির্বাচনে কোন দল কতটি আসন পায়, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প কতটা চাপে পড়বেন।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে:
১. প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নজরদারি বাড়বে
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ বাড়বে। কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রশাসনের নীতি, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে পারবে। প্রয়োজনে সরকারি নথিপত্র তলব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিতে পারবে কমিটিগুলো।
২. অভিশংসনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ঝুঁকি বাড়তে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনার ক্ষমতা একমাত্র প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন ছাড়া প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব নয়।
৩. বাজেট ও সরকারি ব্যয় নিয়ে টানাপোড়েন
সরকারি দপ্তর পরিচালনা, প্রতিরক্ষা খাত এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অর্থ অনুমোদনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বাজেট প্রস্তাব নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারবেন। সমঝোতা না হলে ২০২৭ সালে সরকারি অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা বা শাটডাউনের আশঙ্কা বাড়বে।
৪. বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়োগে বাধা
ফেডারেল আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়া কিংবা অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগ তৈরি হবে।
৫. নতুন আইন পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে
ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিল আটকে যেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে, যা অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে।
৬. শুল্ক, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে চাপ বাড়বে
শুল্কনীতি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের আইনগত ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে এসব নীতি নিয়ে শুনানি, তদন্ত এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করতে পারবেন।
৭. মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিক সংঘাতে কাটতে পারে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ কিংবা নির্বাহী ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ সংকুচিত হবে এবং প্রশাসনের ওপর বিরোধী দলের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
এইচ/এম