আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের কার্যদিবসে অবশ্য স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামও বেড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়। এতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। সিএমইর ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের প্রত্যাশা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, চলতি বছর স্বর্ণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। সংস্থাটি আগে ৪০০ মেট্রিক টন প্রবৃদ্ধির ধারণা দিলেও এখন তা কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে এনেছে। বার ও কয়েন কেনার চাহিদা কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে।
এফ/ডি