ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ দিন দিন আরও জটিল
হয়ে উঠছে। নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বৃহত্তর সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নতুন গঠিত সরকারেও প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, তার দল লিকুদ পার্টি বর্তমান জোট অংশীদারদের পাশাপাশি অন্য যেকোনো দলের সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত—যদি সেই দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন না করে।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইলের জনগণ এমন কোনো সরকার মেনে নেবে না যা আরব দল ‘রা’আম’ কিংবা ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর ওপর নির্ভরশীল। গত সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে নিজের পদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ইহুদি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ লিকুদকে বৃহত্তম দল বানিয়েছে এবং তাকেই পরবর্তী সরকারের নেতৃত্বে দেখতে চায়।
এদিকে রাজনৈতিক চিত্র অন্য রূপও নিতে পারে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘টুগেদার’, ইয়ার গোলানের ‘ডেমোক্র্যাটস’ এবং আভিগদর লিবারম্যানের ‘ইসরাইল বেইতেনু’ পার্টি সরকার গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে গাদি আইজেনকটের নাম সুপারিশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে বিরোধী দলগুলোর সমর্থনের ভিত্তিতে আইজেনকটের পক্ষে রয়েছে ৪৮ জন আইনপ্রণেতার সায়। আরবভিত্তিক দুটি দলও যদি তাকে সমর্থন দেয়, তবে ১২০ সদস্যের নেসেটে তার পক্ষে মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পৌঁছাতে পারে।
সর্বশেষ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর ঝুলিতে গেছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে কেবল নাম সুপারিশ করলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হবে না। কারণ আভিগদর লিবারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আরব দলগুলোর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমর্থনে গঠিত কোনো সরকারে তিনি অংশ নেবেন না।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী বুধবার থেকে দু দিনব্যাপী পার্লামেন্টের সব দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বৈঠক শেষে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে তিনি চূড়ান্ত আইনপ্রণেতাকে মনোনয়ন দেবেন।
এইচ/এম