[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

জাপানকে ছাড়িয়ে ২০২৭ সালে চতুর্থ অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারত

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫:৫১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থানে উঠে আসতে পারে ভারত। সে সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে।

 

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত চতুর্থ অবস্থান ধরে রাখতে পারে জাপান। তবে পরের বছর ভারত ও যুক্তরাজ্যের পেছনে নেমে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ২০২৬ সালের জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে আইএমএফ।

 

অন্যদিকে, জাপানের অর্থনীতি নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জাপানের প্রবৃদ্ধি কমে ০.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

 

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে আইএমএফের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা ভারত তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থেকে মোকাবিলা করেছে। তার মতে, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং পর্যাপ্ত সঞ্চিত সম্পদ দেশটিকে সংকট সামলাতে সহায়তা করেছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা জাপানের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েনের দরপতনও দেশটির অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

জাপানে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়িয়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ থেকে জাপান কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা পেলেও এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের তুলনায় এর ইতিবাচক প্রভাব সীমিত বলে মন্তব্য করেছেন আইএমএফের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

 

বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রয়েছে চীন ও জার্মানি। আইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির তালিকায় ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর