ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
এক কর্মকর্তা জানান, হুথি ও ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি ভূখণ্ডে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে সৌদির অন্যতম প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও একই সময়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সরঞ্জামের ঘাটতির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে যাওয়ায় রিয়াদের অনুরোধ পূরণে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই বুধবার সৌদি আরব দাবি করেছে, হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। মক্কাকে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইয়েমেন সীমান্ত থেকে মক্কার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার।
এদিকে হুথিদের হামলার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের তৎপরতায় সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও তেল অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার মতে, সৌদি আরব বর্তমানে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। দেশটিকে সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি বিস্তৃত এলাকায় থাকা তেল অবকাঠামোগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা বাড়াতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। তবে সরাসরি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ সীমিত বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এসআর