[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, দালালদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই যৌথভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নির্মাণাধীন সিলেট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল এবং হাম রোগীদের চিকিৎসায় নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একটি চক্র রোগীদের নানা ধরনের কথা বলে বিভ্রান্ত করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

তিনি বলেন, দালালদের ধরতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও অভিযান

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।

ভুয়া চিকিৎসক কিংবা সনদপ্রাপ্ত নয় এমন টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে পুরো ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের নির্দেশ

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের অফিসে আসা ও যাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাদ পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান

হাম প্রতিরোধে আগের টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের জন্য বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু আগের কর্মসূচিতে টিকা নিতে পারেনি।

কেউ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেনি, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে টিকাকেন্দ্রে যেতে পারেনি। আবার কোনো কোনো শিশু স্কুলে থাকায় নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। এরপরও কিছু শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।

এর মধ্যে নতুন করে টিকার আওতায় আসার বয়সী শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং টিকা না পাওয়া কিছু শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া কর্মসূচির সময় বয়সের কারণে কিছু শিশু টিকা নেওয়ার সুযোগ পায়নি। পরবর্তীতে তারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় না আসায় বাদ পড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

হাওরাঞ্চলে বাড়তি গুরুত্ব

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূল ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাত দিনের মধ্যে ওসমানীর ড্রেনেজ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ, ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্টদের আগামী সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সীমিত জনবলেই চলছে স্বাস্থ্যসেবা

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স রয়েছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর