হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মনে হতে পারে, তবে ধীরে ধীরে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
উপসর্গ কী কী?
হামের শুরুতে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, গলা ব্যথা ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ২–৪ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকদিন স্থায়ী হয়।
এ ছাড়া মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট) দেখা যাওয়া হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
কখন ঝুঁকি বাড়ে?
হাম সাধারণত ৭–১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
রোগটি ফুসফুস বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, খিঁচুনি এমনকি দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে অন্য সংক্রমণ যুক্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।
কীভাবে ছড়ায়?
আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। এই ভাইরাস কিছু সময় পরিবেশে সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
চিকিৎসা ও করণীয়
হামের নির্দিষ্ট কোনো এন্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্বর নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা (আইসোলেশন) জরুরি, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও প্রয়োজন।
প্রতিরোধের উপায়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। নির্ধারিত দুই ডোজ টিকা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকা দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে হামের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এসআর