দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণ হিসেবে টিকার ঘাটতি নাকি অন্য কোনো গাফিলতি দায়ী—তা নিয়ে সরকারের বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসন ও সাবেক
অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত প্রায় শূন্যের কোঠায়। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হাতে পর্যাপ্ত টিকা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় 'অপারেশন প্ল্যান' (ওপি) বাতিল করার ফলে টিকা সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখন পড়ছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়াকেও তিনি একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান। তার দাবি:
নিজস্ব অর্থায়ন: অনুদান নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে টিকা কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দও ছিল।
আক্রান্তদের বয়স: মারা যাওয়া বা আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের কম, অথচ হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে।
সরবরাহ: কোনো অভিভাবক কেন্দ্রে গিয়ে টিকা পাননি—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ নেই।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, তথ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে পরবর্তী ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ভান্ডারে মজুত কমলেও বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বড় আকারের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব—সব মিলিয়েই এই সংকট তৈরি হয়েছে। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সঠিক কেস স্টাডি ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: