[email protected] শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩

শোবিজে ঘন ঘন ভাঙনের সুর: প্রেম, রূপকথা ও আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

প্রেম, পরিণয় আর দীর্ঘ পথচলার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিটি সম্পর্কের সূচনা হলেও হঠাৎ কোনো

 একদিন সেই নির্ভরতার ভিত ধসে পড়তে পারে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গ্ল্যামার জগতেও যখন কোনো রূপকথার মতো সম্পর্কের অবসান ঘটে, তখন অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে এক গভীর শূন্যতা ও প্রশ্ন তৈরি হয়। সম্প্রতি দেশের তারকা অঙ্গনে পরপর কয়েকটি বিচ্ছেদের ঘটনা আবারও সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও ভঙ্গুরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

​সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রিয় তারকা জুটি প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের বিচ্ছেদের খবর। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিচ্ছেদের কথা জানান তারা। ১০ বছরের সম্পর্কের পথচলা ও ৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন আকস্মিক সমাপ্তি মেনে নিতে পারছেন না তাদের ভক্ত-অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা প্রীতম-শেহতাজ জুটির অতীত স্মৃতি ও মধুর মুহূর্তগুলো স্মরণ করে সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

​তবে প্রীতম-শেহতাজ একা নন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশের বিনোদন জগতে একের পর এক বিচ্ছেদের সুর বেজেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান তাঁর স্ত্রী রোজা আহমেদের সঙ্গে বিচ্ছেদের সংবাদ নিশ্চিত করেন। বিচ্ছেদের বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করলেও ঠিক কী কারণে তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।

​অন্যদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না এলেও অনেক জুটিকে নিয়েই শোবিজে চলছে গুঞ্জন। বিশেষ করে দুই বাংলার আলোচিত জুটি রাফিয়াত রশীদ মিথিলা ও ভারতীয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের পর দীর্ঘদিন সুখে সংসার করলেও বেশ কিছুদিন ধরে তাদের একসাথে দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে মিথিলা যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সৃজিত জানান, মাঝেমধ্যে তিনি একাকিত্ব অনুভব করেন এবং কাজ বা বন্ধুবান্ধবই তাঁর সময় কাটাচ্ছে। মিথিলার নাম সরাসরি না নিলেও তাঁদের মধ্যকার বাড়তে থাকা দূরত্বের বিষয়টি এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

​তারকাদের জীবনে বিচ্ছেদের এই ধারা গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালেও লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘ ৬ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনে গত বছর বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭ বছর সংসার করার পর তাঁর তৃতীয় বিচ্ছেদের কথা জানান গায়ক হৃদয় খান।

​কেন তারকাদের বিচ্ছেদে ব্যথিত হয় সাধারণ মানুষ?

​সেলিব্রিটিদের বিচ্ছেদের খবরে ভক্তদের হতাশ হওয়ার পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলার তাঁর এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ তারকাদের একটি ‘নিখুঁত’ বা পারফেক্ট জুটি হিসেবে দেখে এবং বিশ্বাস করতে চায় যে শুধু ভালোবাসাই একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যখন এমন বিত্তবান, আকর্ষণীয় ও সফল মানুষদের সংসার ভেঙে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক ভীতি তৈরি হয়। অনেকে ভেবে বসেন, এতো সুবিধা ও নিখুঁত জীবন থাকা সত্ত্বেও যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক টিকে থাকা কতটা সম্ভব? শেফলার মনে করিয়ে দেন, ভালোবাসার পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আর্থিক আস্থার মতো বাস্তব স্তম্ভগুলো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

​ডিজিটাল মাধ্যম ও আধুনিক দাম্পত্যের চ্যালেঞ্জ

​বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক নষ্ট করার অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। সামনাসামনি যোগাযোগের অভাব, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাগের মাথায় দেওয়া বার্তা বা পুরোনো স্মৃতির স্থায়িত্ব ক্ষমা করার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে। তাছাড়া, ইন্টারনেটে অন্যদের সাজানো ও নিখুঁত জীবনের ছবি দেখে নিজেদের সম্পর্কের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা ও তুলনা তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে অবাধ যোগাযোগের কারণে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হয়ে বহু মজবুত সম্পর্কও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর