[email protected] বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ৮:৩০ এএম

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ গ্রিন লিফ কালচারাল ফোরাম ও মাদার তেরেসা ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান মানবিকতা, সমাজসেবা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের স্বীকৃতিতে পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলায়।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন গ্রিন লিফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও সংগঠক তসলিম হাসান হৃদয় এবং যেরিন সুবা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রেনু রোজিনা। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমাদের আলোকিত সমাজ’-এর চেয়ারম্যান এআরএম।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান কামরুল কায়েস চৌধুরী, মানবিক পুলিশ হিসেবে পরিচিত মো. শওকত হোসেন পিপিএম, বেওয়ারিশ সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান গনী মনসুর, লায়ন মতিউর রহমান সৌরভ এবং মাদার তেরেসা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ‘দ্য পিপলস ভিউ’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কারু কৃষাণসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদার তেরেসা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ফরিদা আক্তার।


পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মানবিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৩৫টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


এবারের আয়োজনে ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা প্রদান করা হয় কামরুল কায়েস চৌধুরীর মাকে। সম্মাননা প্রাপ্তদের তালিকায় আরও ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেনু রোজিনা, সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, মানবিক পুলিশ শওকত হোসেন পিপিএম, জিনাত আরা বেগম, সাংবাদিক ও সমাজসেবক জাহিদুল করিম কচি, সর্বোচ্চ রক্তদানে অবদানের জন্য জাবেদ নাসিম এবং সেরা মানবিক সংগঠন হিসেবে ফুলের হাসি ফাউন্ডেশন।


সম্মাননা প্রদান শেষে জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার আলমগীর হোসেন আলোর তত্ত্বাবধানে পরিবেশিত হয় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুভূতি প্রকাশ করে রেনু রোজিনা বলেন, “যেখানে গুণীর সম্মান নেই, সেখানে গুণীর জন্ম হয় না। আজকের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।” তিনি গুণীজন সম্মাননার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে তসলিম হাসান হৃদয় জানান, সমাজের ইতিবাচক ও মানবিক কাজগুলোকে সামনে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্মাননা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সব মিলিয়ে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ছিল একটি সফল ও অর্থবহ আয়োজন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর