আবাসন সংকট, বাজেটের অপ্রতুলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই বর্ণাঢ্য
আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ- ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’ পাসের মাধ্যমে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়ে ২১ বছর পূর্ণ করে ২২ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিবসটি পালিত হলেও এ বছর দুর্গাপূজার ছুটির কারণে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের ঘোষণায় ২ নভেম্বর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় উচ্চশিক্ষার পরিসর ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়টির মৌলিক সংকটগুলো এখনো কাটেনি। বর্তমানে ৭টি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যাদের পাঠদানে রয়েছেন প্রায় ৭০০ শিক্ষক এবং ৫০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
তবে শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের বিপরীতে বাজেট ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৩৩০ কোটি টাকার বাজেটের চাহিদা দেওয়া হলেও ইউজিসি অনুমোদন করেছে মাত্র ১৫৯ কোটি টাকা, যার বড় অংশই বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়। ফলে গবেষণা ও শিক্ষা উপকরণের সংকট প্রকট থেকে যাচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একটি ছাত্রী হল রয়েছে, ছেলেদের জন্য কোনো হল নেই।
এ সংকট নিরসনে পুরান ঢাকার বংশাল ও বাংলাবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাণী ভবন ও হাবিবুর রহমান হলের নির্মাণকাজ চলছে, যা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ২০০ একর জমিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রথম ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর ২৫ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধীনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, যার অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ।
১৮৫৮ সালে ‘ব্রাহ্ম স্কুল’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৭২ সালে ‘জগন্নাথ স্কুল’ এবং ১৮৮৪ সালে এটি কলেজে রূপ নেয়। ১৯৬৮ সালে সরকারি হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানান, বিগত ২০ বছরে আশানুরূপ বিকাশ না হলেও বর্তমান প্রশাসন সব ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এইচ/এম