গত সাড়ে তিন দশকে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে শনিবার (৩১ অক্টোবর)।
ফল প্রকাশের পর জানা যাবে ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের হার কত।
গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।
তবে তাদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নেননি।
গত ৩৬ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে এইচএসসিতে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ওই বছর পাশের হার ছিল মাত্র ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পাশের হার রেকর্ড করা হয় ২০২০ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ওই বছর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
আগের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ের ফলাফল বিশ্লেষণেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাশের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
পরের বছর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমে যায় প্রায় ১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০০৫ সালের পর ওই বছরই সবচেয়ে কম পাশের হার দেখা যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে এইচএসসিতে পাশের হার ছিল ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।
১৯৯১ সালে তা বেড়ে প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ১৯৯২ সালে ৬৫ শতাংশের ওপরে ওঠে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে এ অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৩ সালে পাশের হার কমে ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি হয়। ১৯৯৪ সালে তা ৪০ শতাংশ অতিক্রম করে এবং ১৯৯৫ সালে আবার বেড়ে ৪৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
এরপর ১৯৯৬ সালে পাশের হার এক ধাক্কায় নেমে আসে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে। পরবর্তী সময়ে কিছুটা উন্নতি হলেও ফলাফলে স্থিতিশীলতা ছিল না। ১৯৯৭ সালে পাশের হার ছিল ৩৯ শতাংশের বেশি। ২০০১ সালে তা কমে ২৮ শতাংশের কিছু ওপরে এবং ২০০২ সালে প্রায় ২৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৩ সালে আবার বেড়ে ৩৮ শতাংশ ছাড়ায়। ২০০৪ সালে এই হার আরও উন্নীত হয়ে প্রায় ৪৮ শতাংশে পৌঁছে।
২০০৫ সাল থেকে এইচএসসির ফলাফলে তুলনামূলক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। ওই বছর পাশের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
২০০৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৬৪ শতাংশ হয়। ২০০৭ সালেও হার ছিল ৬৪ শতাংশের বেশি।
২০০৮ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়ে পাশের হার প্রায় ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে ২০০৯ সালে কিছুটা কমে ৭০ শতাংশের সামান্য ওপরে নেমে আসে।
২০১০ ও ২০১১ সালে পাশের হার ঘোরাফেরা করে প্রায় ৭২ শতাংশের আশপাশে। ২০১২ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
২০১৩ সালে আবার কমে ৭১ শতাংশের কিছু বেশি হয়। পরের বছর ২০১৪ সালে পাশের হার প্রায় ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়। ২০১৫ সালে তা কমে প্রায় ৬৬ শতাংশে নেমে গেলেও ২০১৬ সালে আবার ৭২ শতাংশ অতিক্রম করে।
এরপর ২০১৭ সালে পাশের হার কমে প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে প্রায় ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই বছর পাশের হার বেড়ে প্রায় ৭২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়।
করোনার প্রভাবে ২০২০ সালে পরীক্ষা না হওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে ফল মূল্যায়ন সম্ভব হয়নি।
বিকল্প ব্যবস্থায় সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করায় পাশের হার হয় ১০০ শতাংশ। ২০২১ সালে পাশের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে আসে।
পরবর্তী দুই বছরেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। ২০২৩ সালে পাশের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষ করে ২০০৫ সালের পর পাশের হার তুলনামূলকভাবে উন্নত হলেও সাম্প্রতিক দুই বছরে আবার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।
চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর এই ধারায় নতুন কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ/এইচ/টি