[email protected] শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৩–৬ মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষার সুযোগ -মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৫২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার পরিবর্তে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

একই সঙ্গে পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং বিকল্প ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, আগামী বছর থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারেনি, সেসব বিষয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। অকৃতকার্য ও আশানুরূপ ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের যোগ্যতা, আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের ব্যবসা শুরু করতে প্রাথমিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হতে পারে। তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে কাজের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কেবল শিক্ষাগত সনদ থাকলেই চাকরি বা কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। বাস্তবমুখী দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও ভাষা শেখার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসিতে ভালো ফলাফল করাই জীবনে সফলতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না করলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন কিংবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতার কারণে কারও সৃজনশীলতা ও অন্যান্য যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর