আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি হতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় থাকবে ৫০ নম্বর। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক ঘণ্টা।
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং সময় থাকবে দুই ঘণ্টা।
শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার মাউশিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও বিজয় দিবসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে মাউশি। তবে পরীক্ষার তারিখসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে।
এদিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগে নভেম্বরের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের শূন্য আসনের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
মাউশির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষার মোট নম্বর ৫০ এবং সময় এক ঘণ্টা।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০ এবং সময় দুই ঘণ্টা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, মাউশির পক্ষ থেকে ভর্তি নীতিমালার একটি প্রস্তাব শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির পর থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু ছিল।
পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে প্রথম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে লটারির মাধ্যমে ভর্তির প্রস্তাব রাখা হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির উদ্যোগ বহাল রয়েছে।
সূত্র - এশিয়া পোস্ট...
এসআর