চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানোর জন্য কৃত্রিমভাবে ফলাফলকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্জনকে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছর প্রথমবারের মতো সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি বডি-ওন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী সারা বছর যে প্রস্তুতি নিয়েছে, পরীক্ষার ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
তাই ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় ভালো বা খারাপ—যাই হোক না কেন, এটিকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে।
প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফলাফল জীবনের শেষ কথা নয়।
সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে শিক্ষা খাতও নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একটি দুর্বল ও ভেঙে পড়া কাঠামো অল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষামুখী না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন চারটি বই যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা ব্যবস্থায় খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সমন্বয় এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য গণমাধ্যমে তুলে ধরে অন্যদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
এসআর