চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের পর দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফলাফল পাওয়া যাবে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
এবারের পরীক্ষায় শুরু থেকেই অনুপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে।
অর্থাৎ ফরম পূরণ করলেও শেষ পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ওঠানামা করেছে।
২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা নেমে আসে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে।
২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে।
ফলে এবার পাসের হার কত হয়, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের অবস্থানও স্পষ্ট হবে।
এবার পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে পদ্ধতি ও নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছিল, এবারও তা বহাল রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে পরীক্ষার ফলাফলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর অভিযোগ ছিল। এর ফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা আসায় ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে।
ফলে এবারের ফলাফল শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি করেছে।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সে সময় পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।
গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছিল শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম বড় পাবলিক পরীক্ষা।
তাই ফলাফল প্রকাশের পর তার নেতৃত্বাধীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি ও অবস্থান নিয়েও আলোচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পাসের হার বাড়ানোই শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি।
এসএসসি পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একাদশ শ্রেণিতে ভালো কলেজে ভর্তি, পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও ফলাফল প্রভাব ফেলে। অনেক চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও এসএসসি ফলের গুরুত্ব রয়েছে।
তাই ফলাফল ভালো বা খারাপ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পার্থক্যের কারণ চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। যেসব শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ছে, তাদের সমস্যাগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাই শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করেন তারা।
এবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। ফল প্রকাশের তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। পরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় ওই তারিখে ফল প্রকাশ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে।
সেই অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এসআর