মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সরাসরি ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সপ্তাহে মোট ছয় দিন পাঠদান চলবে।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা তিন দিন সরাসরি ক্লাসে অংশ নেবে এবং বাকি তিন দিন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে জোড়-বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বর অনুযায়ী ক্লাস ভাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে সেখান থেকে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে। তবে বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক বিষয়গুলোর ক্লাস অবশ্যই সরাসরি ল্যাবে সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
সম্প্রতি দীর্ঘ ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রথম দিন উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে রাজধানীর কিছু এলাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা দেখা দেয়, যা এই নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী আগে থেকেই কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনায় ছিল, যার মধ্যে সম্পূর্ণ অনলাইন, আংশিক অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত (হাইব্রিড) এবং রুটিন ভাগ করে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি ছিল। শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড পদ্ধতিতেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: