শেয়ারবাজারে প্রায় ২৫৭ কোটি টাকার কারসাজি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ক্রিকেটার এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদন জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন
কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৮ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে আলোচিত এই কারসাজির ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আজ বিএসইসি থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনটি জব্দ করেন।
গত বছরের ২৫ জুন শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করেছেন। তারা নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে বাজার থেকে তুলে নেন।
মামলার অন্যতম আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (হিরু) এবং তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ আয় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর ও লেয়ারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। হিরুর ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং সোনালী পেপারসের শেয়ারে বিনিয়োগ করে কারসাজিতে সরাসরি সহায়তা এবং ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা অবৈধ ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সাকিব দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তি করলেও বিভিন্ন বিতর্কের জেরে ২০২২ সালে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এসআর