ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। একপর্যায়ে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নরসিংহপুর ও জামগড়াসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসব ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা সাধারণ শ্রমিক নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। অপরাধে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ এসব মামলা করে। তিন মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জনকে।
শ্রমিকদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, চাকরি থেকে বাদ দেওয়া শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা। এসব দাবিতে গত শনিবার গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাকশ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার (১ নভেম্বর) রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। তবে এ উদ্যোগের পরও সোমবার সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের ২৬৪টি পোশাক কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ কারণে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এফ/ডি