[email protected] মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসিতে কুড়িগ্রামের ৯ কলেজে শূন্য পাস

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাদের কেউই পাসের মুখ দেখেননি।

 

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার পাসের হার শূন্য। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নয়টি কুড়িগ্রাম জেলার।

 

বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ জনের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

 

নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মডেল কলেজের ১৫ জন এবং একই উপজেলার কুটি পেয়ারাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। এ ছাড়া চিলাখানা মডেল কলেজ থেকে চারজন অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

 

রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজের ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি.এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। একই উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

 

অন্যদিকে, উলিপুর উপজেলার হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন এবং চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।

 

এদিকে, জেলার সামগ্রিক এইচএসসি ফলাফলও আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি বছর কুড়িগ্রামে মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৬৮৩ জন এবং ছাত্রী ৬ হাজার ৩৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

 

ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা ভালো করেছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ১৩৬ জন। এর মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।

 

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জেলার চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকার মতো সমস্যা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর