বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকেরা সড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার কয়েকটি শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা এতে অংশ নেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ভাষ্য, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তারা কয়েক দিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। কিন্তু তাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে দাবি আদায়ে সড়কে নেমে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোথাও মহাসড়ক অবরোধ, আবার কোথাও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে যোগ দেন।
পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় আশপাশের কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করে। তবে এতে মহাসড়কে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটেনি।
বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং সংঘর্ষ চলছিল।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এফ/ডি