এক যুগ আগেও নারকেলের ছোবড়া ছিল অবহেলিত এক উপকরণ, যা বেশিরভাগ সময়
আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো অথবা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অথচ সেই ফেলনা ছোবড়াই এখন বদলে দিচ্ছে লক্ষ্মীপুরের অর্থনীতির চিত্র। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এটি মূল্যবান সম্পদে রূপ নিয়েছে এবং ছোবড়া থেকে তৈরি নানা পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলায় গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি কারখানাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বছরে কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর জেলায় ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে এবং প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় নারকেল গাছ রয়েছে। ২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ২৭ হাজার ১২০ মেট্রিকটন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮১ কোটি টাকা। গত এক বছরে শুকনা নারকেল ও ডাব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আয় হয়েছে। উপকূলীয় এই জেলায় নারকেলের আবাদ বাড়াতে এ বছর প্রণোদনা হিসেবে প্রায় ৪০ হাজার নারকেল চারা বিতরণ করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, সদর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩০টি প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় প্রতিটিতে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। নারকেলের ছোবড়া থেকে মূলত আঁশ (ফাইবার) এবং উপজাত হিসেবে গুঁড়া (কোকোডাস্ট) তৈরি করা হয়। ফাইবার দিয়ে জাজিম, গদি, দড়ি, জুতা, খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি হয়, আর গুঁড়া বা কোকোডাস্ট মাটির অভাব থাকা বাগানে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়।
কারখানাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে জানা যায়, ২ থেকে ৩ টাকা দিয়ে একেকটি নারকেলের ছোবড়া কেনা হয়। সদর উপজেলার দালাল বাজারের একটি কারখানায় ডিজেলচালিত যন্ত্রের সাহায্যে ছোবড়া কেটে খণ্ড করা হয় এবং শ্রমিকরা তা থেকে আঁশ আলাদা করে রোদে শুকান। এরপর শুকনা আঁশ পরিমাপ করে প্লাস্টিক সুতা দিয়ে ‘বেল’ (২০ কেজিতে ১ বেল) তৈরি করা হয়। কারখানা মালিক গাজী হাসমত জানান, তাঁর কারখানা থেকে ৬ থেকে ৭ ট্রাক আঁশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এবং প্রতি ট্রাক আঁশ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি ভালো দামে ছোবড়ার গুঁড়াও বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিটি কারখানা থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকার ছোবড়া বিক্রি হয়ে থাকে।
জেলা বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক মো. ফজলুল করিম বলেন, লক্ষ্মীপুর নারকেল, সুপারি ও সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত হলেও নারকেলের ছোবড়াও একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন উদ্যোক্তা যুক্ত আছেন। উদ্যোক্তারা বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণসহ শিল্প নিবন্ধনের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এসআর