যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আসামিদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
মামলাটি করেন যশোর সদরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের হওয়া মামলাটির নম্বর ১২৬। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামি তালিকার ১০২ নম্বরে মো. নুর ইসলাম বাবুকে যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া সর্বশেষ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম সিকদার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মো. আব্দুল সাত্তার ও মো. জাহাঙ্গীর আলম আনু—এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, নুর ইসলাম বাবু সার্জেন্ট (অব.) নামে পরিচিত এবং তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া মাদ্রাসা কমিটির কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি ছিলেন। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন মো. মাহমুদুল হাসান বাবু।
মাহমুদুল হাসান বাবুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। তাদের বক্তব্য, তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ ইসলাম অমিতের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে। তাদের দাবি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাদের বাদ দিয়ে অন্য একজনকে ওই পরিচয়ে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে মামলার আসামি তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মামলার তদন্ত ও আসামি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও গ্রুপিংকে কাজে লাগিয়ে কোনো পক্ষ পুলিশকে ব্যবহার করে মামলা করিয়ে থাকতে পারে। এতে পুলিশের ভূমিকা এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তারা মনে করেন।
তবে মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, বিদেশে অবস্থান বা মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে মামলার প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।
এসআর