[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবীগঞ্জে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬ ৫:৩৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

পরীক্ষা শুরুর আগেই এক শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের তীর বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের দিকে।


বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার পর অভিযোগটি সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর আগে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইলে পাঠানো প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নের একটি অংশের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।


অভিযোগের সমর্থনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে ‘Mahadev Sir’ নামে সংরক্ষিত একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচটি বর্ণনামূলক প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে বলে দেখা যায়। পরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একই প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন প্রণয়ন করেন সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রশ্ন প্রস্তুত করে তা প্রিন্ট, সিলগালা এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ওপর থাকে। ফলে প্রশ্ন বাইরে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব নির্ধারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, এর আগেও মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়তে উৎসাহিত করা এবং কোচিংয়ে অংশ না নিলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

এসআর

সম্পর্কিত খবর