[email protected] মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেন্টমার্টিন রুটে অতিরিক্ত স্পিডবোট ভাড়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে বাসিন্দা ও পর্যটক

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬ ১১:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত স্পিডবোট ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

দ্বীপবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা স্পিডবোট সেবায় প্রতিযোগিতার অভাব থাকায় যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনাফ সদর থেকে সেন্টমার্টিনের প্রায় ১৬ কিলোমিটার নৌপথে একমুখী ভাড়া হিসেবে জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই জেলার অন্যান্য নৌরুটের তুলনায় এই ভাড়া অনেক বেশি বলে অভিযোগ তাদের।

 

অভিযোগে বলা হয়, ‘নারিকেল জিনজিরা স্পিড বোট ও লাইফ বোট মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সংগঠনের অধীনে পরিচালিত নৌযানে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ভাড়া কার্যকর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ বিষয়ে কার্যকর প্রতিযোগিতা বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে এই ভাড়া পরিশোধ করছেন।

 

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী থেকে কক্সবাজার সদর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার নৌপথে স্পিডবোট ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। সেই তুলনায় সেন্টমার্টিন রুটে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে তারা দাবি করেন।

 

দ্বীপবাসীরা জানান, উন্নত চিকিৎসা, সরকারি কাজ কিংবা প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য প্রায়ই টেকনাফে যেতে হয়। যাতায়াতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এক বাসিন্দা বলেন, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে শুধু যাতায়াত ভাড়াতেই উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে তথ্য জানতে সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত তথ্য বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আবেদন প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকির অভিযোগও তুলেছেন তারা।

 

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি, ভাড়ার যৌক্তিক নির্ধারণ এবং নৌপরিবহন খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে দ্বীপবাসী ও পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর