গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতে বসে ফল বিক্রি করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথে গড়ে ওঠা দোকানপাট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন পলাশবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ডাকবাংলো সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় বসা মৌসুমি ফল বিক্রেতারা। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা নিম্নআয়ের মানুষগুলো হঠাৎ উচ্ছেদের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ফুটপাতেই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হয়।
আকস্মিক উচ্ছেদ হলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন, ঋণের চাপ বাড়বে এবং পরিবারের ব্যয়ভার সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে সন্তানদের পড়াশোনার ওপরও।
তাদের আশঙ্কা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে বেকারত্ব বাড়বে, যা সামাজিক সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করেন, ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ীদের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট স্থান বা আলাদা বাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে একটি ফলের বাজার স্থাপন করে এসব ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এসআর