কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের একটি ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।
ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২৪ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০)।
পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরাগভাজন হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তার মুক্তির দাবিতে বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে খায়রুলের বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী খোশনাহার আক্তারসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, খায়রুল ইসলাম হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজপোর্টালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরদিন ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন খায়রুল ইসলাম। একই বিষয়ে পরবর্তীতে আরও কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২ মার্চ এক পক্ষের দায়ের করা মামলার পর ৫ মার্চ পাল্টা মামলা করা হয়, যেখানে ভাঙচুর, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে খায়রুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য, খায়রুল কোনো পক্ষের সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না; শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, ৯ মার্চ খায়রুল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।
বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
খায়রুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এসআর