রাজশাহী বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। বিশেষ করে ৯ মাস বয়সের নিচে থাকা শিশুরা, যাদের এখনও প্রথম ডোজ টিকার বয়স হয়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)
হাসপাতালে চলতি মাসে হামে আক্রান্ত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, আক্রান্তদের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু শিশু বাদ পড়া এবং বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হওয়াকে এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংক্রমণের মূল কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
বয়সভিত্তিক ঝুঁকি: আক্রান্তদের বড় অংশই ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী। নিয়ম অনুযায়ী হামের প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে দেওয়া হয়। টিকা নেওয়ার আগেই শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।
টিকাদানে বিলম্ব: প্রতি তিন-চার বছর অন্তর ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের নির্ধারিত ক্যাম্পেইনটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বিলম্ব সংক্রমণের হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিত্র: এই জেলায় গত ৩-৪ বছরে অনেক শিশু টিকা মিস করায় এবার সংক্রমণের প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: স্বাস্থ্য বিভাগ সীমান্ত এলাকা ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইসোলেশন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: