[email protected] বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
১৮ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন জুয়ার থাবা: শার্শায় পথে বসছে অসংখ্য পরিবার

শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬ ৭:৩২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় স্মার্টফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারে অনলাইন ক্যাসিনোর ফাঁদে পড়ে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এমনকি সচ্ছল পরিবারের তরুণরাও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘গেম’ খেলার আড়ালে পরিচালিত এসব প্ল্যাটফর্মে প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের যুক্ত করা হচ্ছে।

শুরুতে সামান্য লাভের সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ হারানোর ঘটনা ঘটছে। অনেকের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


ঝিকরগাছায় এমন ঘটনাও শোনা গেছে, যেখানে বিত্তশালী পরিবারের সন্তান অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে পারিবারিক সম্পদ হারিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে।

শার্শায় এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকও এই আসক্তির কারণে নিজের উপার্জিত অর্থ ও পৈত্রিক সম্পদের বড় অংশ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে, যার ফলে তার পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়েছে।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এটি এক ধরনের গভীর আসক্তি, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেকেই সংসার ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব উপেক্ষা করে দিনরাত মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন। অতীতে এমএলএম ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি অংশ এখন নতুন করে এই অনলাইন জুয়ার ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছেন।


শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্নআয়ের মানুষও এতে জড়িয়ে পড়ছেন। কুলি, ভ্যানচালক ও চা-দোকানিরা দৈনিক উপার্জনের অর্থ ইন্টারনেট খরচে ব্যয় করে এই জুয়ায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে অনেক পরিবারেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পুঁজি হারিয়ে ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছেন।


সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনো কার্যকর নজরদারি বা প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর