জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক পাম্পে ভিড় করায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে, এতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়। পাম্পমুখী যানবাহনের চাপ আশপাশের সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বহু যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের সারি সড়কের ওপর চলে আসায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এমনকি জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরদিন বুধবার (২৫ মার্চ) সকালেও উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকায় খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের ভিড় দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অপেক্ষা করতে হয় চালকদের।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এতে জ্বালানির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে এবং ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ তৈরি হওয়া যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অনেকেই জরুরি কাজেও বিলম্বের শিকার হয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পাম্পে সংকট থাকলেও খোলা বাজারে তুলনামূলক সহজে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, যা সিন্ডিকেটের কারসাজি হতে পারে। কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রির কথাও জানা গেছে, যা নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়; বরং হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে বেশি গ্রাহক আসায় সেবা দিতে সময় লাগছে।
চালকদের অনেকে জানান, ভবিষ্যতে সংকট বাড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন।
এদিকে পৃথক লেন না থাকায় জরুরি রোগী বহনকারী গাড়িও যানজটে আটকে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ শুরু করলে ধীরে ধীরে যানজট কমে আসে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই সাময়িক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং বর্তমানে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুজব ও আতঙ্ক থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাহিদাই এই অস্থিরতার প্রধান কারণ। যদিও সরকার বলছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
এসআর
মন্তব্য করুন: