বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি সামাজিক
মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তাঁর দেশে ফেরা এখন সম্পূর্ণভাবে তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেই। মায়ের অসুস্থতার সময়ে দেশে থাকতে চাইলেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তাঁর সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলছে—যা তিনি প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতেও পারছেন না।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বলা হয়েছে—সরকার তাঁর দেশে ফেরায় কোনো প্রকার বাধা দিচ্ছে না। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে খুব বেশি খোলাসা না করে ইঙ্গিত দিয়েছে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাস্তবে একটি বড় বিবেচ্য বিষয়।
বিএনপির অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করেন, খালেদা জিয়ার পর দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূলত তারেক রহমানের ওপর। তাই তাঁর নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে দেশের ভেতরে বিভিন্ন উগ্রবাদী গ্রুপের সক্রিয়তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাঁরা আরও সতর্ক।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হলেও, তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন এখনো দলীয় কৌশল, জাতীয় পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শক্তির অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাঁকে বগুড়া-৬ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক শক্তির কূটনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত এককভাবে ব্যক্তিগত নয়; বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর নির্ভরশীল।
এসআর
মন্তব্য করুন: