বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়, যদিও তিনি সচেতন আছেন এবং আশপাশের মানুষকে চিনতে পারছেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজন আরও উন্নত চিকিৎসা–তত্ত্বাবধান।
এদিকে দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা চলছে। বিভিন্ন মসজিদে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম স্মরণ করে আরোগ্য কামনা করছেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস। তিনি প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁর এই ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) গভীর রাতে হাসপাতালে যান সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন,
“তার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমান সিসিইউতে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন ও তার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
মির্জা আব্বাস বলেন,
“আমি মনে করছি, তিনি স্থিতিশীল নন। আরও উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভালো হতে পারেন… আমাদের চিনেছেন এবং সালামের উত্তর দিয়েছেন।”
ড. আব্দুল মঈন খান জানান,
“চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বাত্মক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”
এর আগে বিকেলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল জানান,
“খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়।”
দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমন্বিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সিসিইউতেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তাঁর চিকিৎসা ও হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: