রাষ্ট্রে আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকলে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু—কেউই নিরাপদ নয়, মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর জেএম সেন হলে অনুষ্ঠিত শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে আইনের শাসন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারী শাসনামলে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা প্রমাণ করে, কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গত দুই দশকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অধিকাংশ ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেন কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে কংসের মতো এক নৃশংস স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। তবে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সেই শাসনের অবসান ঘটেছে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, গণতন্ত্র এখনো সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করতে এবং পরাজিত স্বৈরাচার পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত থাকবে না।
তারেক রহমান বলেন, সনাতন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তারা এখন বুঝতে পারছে। তিনি বলেন, যদি এই সত্য উপলব্ধি করা যায়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সচেতনতা।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশ এখন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে, যা দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে অতিক্রম করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর দেশে বিভক্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল। তখন তারেক রহমানের আহ্বানের পর মানুষ এক হয়েছিল এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়।
শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন বিপ্লব পার্থ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন—
এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি নতুনভাবে পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
এসআর
মন্তব্য করুন: