বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মৎস্য ও খাদ্য মন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
একটি ফেসবুক পোস্টে কাদের গনি চৌধুরী লিখেছেন, “নোমান আর নেই।
বীর চট্টলার কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা আবদুল্লাহ আল নোমান আজ ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মহান আল্লাহ প্রিয় নেতাকে সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন, আমিন।”
রাজনৈতিক জীবন:
আবদুল্লাহ আল নোমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ষাটের দশকে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
তখন তিনি মেননপন্থি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতি শেষে, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তিনি পূর্ববাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলেন এবং ন্যাপের (ভাসানী) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী জীবন:
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আবদুল্লাহ আল নোমান। যুদ্ধ শেষে ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব:
১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরে তিনি মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ শ্রদ্ধা:
আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার অবদানের কথা স্মরণ করে রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন—এটাই সবার প্রার্থনা।
এসআর
মন্তব্য করুন: