ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ধরনের প্রচারকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এই মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন
রিজভী আরও বলেন, "বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মূল দায়িত্ব হলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা। দেশের জনগণ এবং তরুণ প্রজন্ম—যারা এখনও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি—তাদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকারকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এর সমাধান হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।"
সংসদ নির্বাচনই আগে প্রয়োজন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বনাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে রিজভী বলেন, "এই বিতর্কে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো অংশ নেওয়া উচিত নয়। তাদের প্রধান কাজ হলো জনগণের হাতে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।"
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, বিএনপির শাসনামলে চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। "এটি প্রমাণ করে যে, বিএনপি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল," বলেন রিজভী।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, মোনায়েম মুন্না এবং নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
উপসংহার
রিজভীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ধরনের ধারণা বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। দলটি জনগণের ভোটাধিকার এবং অবাধ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসআর
মন্তব্য করুন: