[email protected] রবিবার, ৩ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩

আমলাদের একাংশ বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৬ ৩:১৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে

 আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি আমলাতন্ত্রের সংস্কার ও জ্বালানি খাতের নানা অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন।

​হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অনেক আমলা সরকারি চাকরির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, জ্বালানি বিষয়ক জাতীয় কমিটিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, এলএনজি বা ডিজেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত আমলারা সরকারকে সেগুলো আমদানিতেই বেশি উৎসাহিত করেন। মজার বিষয় হলো, অবসরে যাওয়ার পর অনেক আমলাকেই সেই সব বেসরকারি কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করতে দেখা যায়। তিনি মনে করেন, এসব আমলা জনআকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন।

​দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ সংস্কারের অভাবে সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং আমলাতন্ত্রের যে বিশাল কাঠামোগত পরিবর্তনের দরকার ছিল, সরকার তা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার অভাব ও পরনির্ভরশীলতার কারণে কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ছে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত বা পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি উৎস বহুমুখী করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির (রিনিউয়েবল এনার্জি) দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাব তাদের ওপর তেমন পড়ছে না। অথচ বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে বেরিয়ে এসে অতি দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর