জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের বর্তমান গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম
১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তা ২২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলিন্ডারের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি লাইনের গ্যাসের সংকট নিয়েও তিনি সরব হন। রুমিন ফারহানা জানান, তার নির্বাচনী এলাকা সরাইলসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা কেবল ‘মিটিমিটি’ করে জ্বলে। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকে না এবং কখনো কখনো মাত্র এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ করেন যে, এই জেলার গ্যাস সারা দেশে সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় মানুষজনই এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দাবি তোলেন, অন্য এলাকায় গ্যাস দেওয়ার আগে যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের চাহিদা নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, যার ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে রান্নার কাজে বিদ্যুতের চুলা ব্যবহার করাও গ্রামাঞ্চলে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, পাইপলাইনে চাপ কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আগের সরকারের নীতি ও গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতাকে এই সংকটের জন্য দায়ী করেন এবং জানান যে বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে। এছাড়া কৃষির স্বার্থে বন্ধ থাকা আশুগঞ্জ সার কারখানায় আগামী ১ মে থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
এসআর