মালিক বা রাজার সন্তান যদি উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন, তবে শ্রমিকের সন্তান কেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল)
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি চান আগামী দিনের নেতৃত্ব যেন শ্রমিকদের ঘর থেকেই উঠে আসে এবং রাষ্ট্র যেন তাদের সেই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪-এর বৈপ্লবিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমিক। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে শ্রমিকদের অসামান্য অবদান থাকলেও রাষ্ট্র ও সরকারগুলো তাদের নূন্যতম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা যান তারা শ্রমিকদের দুঃখ বোঝেন না। তিনি মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যেখানে কেউ কাউকে শত্রু মনে না করে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
চিকিৎসা সুবিধা: শ্রমঘন এলাকাগুলোতে মানসম্মত সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে এবং শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার ও মালিকপক্ষকে বহন করতে হবে।
শিক্ষা: শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
যৌবনের নেতৃত্ব: তরুণ ও যুবকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, গত নির্বাচনে জামায়াতের ৭০ শতাংশ প্রার্থীর বয়স ছিল ৪২ বছরের নিচে।
জামায়াত আমির সতর্ক করে বলেন, জনগণের অধিকার আবারও ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে। সংসদ থেকে বের হয়ে এলেও তারা জনগণের মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজপথে সক্রিয় থাকবেন এবং অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কাউকে এক চুল ছাড় দেবেন না।
অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন সংগ্রামের শপথ নেওয়া হয়।
এসআর