সরকারি দল তাদের দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে। তার ভাষ্য, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—সরকার তাদের কথা রাখেনি, তাই তাদের ওপর আমাদের আস্থা নেই।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের পর সেগুলো পর্যালোচনায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তার অভিযোগ, সরকারি দলের সদস্যরা একতরফাভাবে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন, যা সংসদীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অধ্যাদেশ আলোচনার বাইরে রেখে ‘ল্যাপস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন এবং পিএসসি সংক্রান্ত বিলগুলো সংসদে না তোলার সমালোচনা করেন তিনি।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বসম্মতি থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে সংশোধনী এনে বিলটির মূল উদ্দেশ্য পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বিরোধী দলকে তা জানানো হয়নি।
এছাড়া সংসদে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে সরবরাহ না করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অধিবেশনের মাত্র এক ঘণ্টা আগে বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র দেওয়া হয়, যা পর্যালোচনার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বন্ধ করা হয়নি, যা সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি আগেই নির্ধারিত ছিল এবং গণভোটের ফলাফল যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
সবশেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বিরোধী দল এ অবস্থান থেকে সরে আসবে।
এসআর