বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বর্তমান সরকারের সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনায়
অংশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বর্তমান সংবিধানের প্রতি কেন এত ক্ষোভ এবং এটি কি কাউকে একাত্তরের পরাজয়ের গ্লানি মনে করিয়ে দেয় কি না।
পার্থ বলেন, জুলাই বিপ্লব নিয়ে কোনো দ্বিমত না থাকলেও এটি বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তার মতে, একটি সাধারণ সরকারের অধীনে থেকে পুরোনো সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার চেষ্টা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে যুক্তিযুক্ত নয়; যদি নতুন সংবিধানই লক্ষ্য হতো, তবে শুরুতেই বিপ্লবী বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে যৌক্তিক সমালোচনা করলেই তাকে আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একরোখা আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয়।
পার্থ মনে করিয়ে দেন যে, জুলাইয়ের চূড়ান্ত বিজয়ের আগে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলগুলো জেল-জুলুম সহ্য করে আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। কোনো একক গোষ্ঠীর অবদান নয়, বরং আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মতো অসংখ্য শহীদের রক্তে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবিত গণভোটের পদ্ধতি নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভোটারদের সামনে একাধিক বিষয়কে একটি মাত্র 'হ্যাঁ' বা 'না' বাক্সে বন্দি করে তাদের পছন্দের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়কে গণভোটের বাইরে রাখা হয়েছে যা জনমতকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না।
এসআর
মন্তব্য করুন: