রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের ফটকের সামনে জাতীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্লোগান দিয়েছেন কার্যক্রমে নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
তারা কিছুক্ষণ স্লোগান দেওয়ার পর সেখান থেকে সরে যান।
২০০২ সাল থেকে ভবনটি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তিনতলা এই ভবনে দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের কক্ষ ছিল। দ্বিতীয় তলায় দলের মুখপত্রের কার্যালয় এবং তৃতীয় তলায় নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
শুরুর দিকে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এটি দলীয় মালিকানায় নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দল টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে পাশের আরও দুটি ভবন যুক্ত করে কার্যালয়ের পরিসর বাড়ানো হয়। ওই ভবনগুলো বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে কেনা হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন সম্পাদক ও উপকমিটির সদস্যরা বসতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। ওই দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশাপাশি সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরে কয়েক মাস ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় কিছু অসামাজিক ব্যক্তি সেখানে অবস্থান নেয় এবং এলাকায় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথাও শোনা যায়।
গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে যুব মহিলা লীগের কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
এ অবস্থায় শুক্রবারের এই উপস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মন্তব্য করেন সংগঠনের এক নেত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ঝুঁকি নিয়েই গিয়েছিলাম।”
ধানমন্ডির কার্যালয়টি ভবিষ্যতে আবারও সক্রিয় হবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন
এসআর
মন্তব্য করুন: